উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০/০৮/২০২২ ৭:৪৮ এএম

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এখন এই জনগোষ্ঠী বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরির কারণ হয়ে উঠছে। শুধু পরিবেশগত ক্ষতি নয়, দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা। তাদের বসবাস শুরু করার পর থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চলে ডায়রিয়া-কলেরা, ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস-বি এবং সি-সহ নানা রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে এইচআইভি-এইডস রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও সংশ্নিষ্ট বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডস রোগীর হার বেড়েছে ৭০ শতাংশ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এটি শনাক্ত শুরু হয় ২০১৫ সালে। রোহিঙ্গারা আসার পর ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কক্সবাজারে ৫৩৮ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ৩৯৫ জনই রোহিঙ্গা। এ বছরের জুন পর্যন্ত জেলাটিতে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৫৪ জন। এর মধ্যে রোহিঙ্গা ৭৭১ জন (৮১ শতাংশ) এবং বাঙালি ১৮৩ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭১০ জন, যেখানে রোহিঙ্গা ৬১২ জন এবং বাঙালি রয়েছেন ৯৮ জন। এ পর্যন্ত এইডস আক্রান্ত হয়ে জেলায় ৬১ জন রোহিঙ্গা ও ৫৭ জন বাঙালির মৃত্যু হয়েছে।

সারাদেশে গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩৬৭ জনের দেহে এইডস শনাক্ত হয়েছে। এর ৩০ শতাংশই রোহিঙ্গা। এদিকে, এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের ৭০ শতাংই কক্সবাজরের উখিয়া ও টেকনাফের। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি রোগী রিফিউজি হেলথ ইউনিট থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। যার বড় একটি অংশ ডেঙ্গু রোগী।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, মিয়ানমার থেকে অনেকে এইডস পজেটিভ হয়ে এলেও সামাজিক কুসংস্কার তথা লোকলজ্জার ভয়ে চিকিৎসার আওতায় আসছেন না। ফলে কেউ শনাক্ত হলেও এরই মধ্যে বিভিন্নজনের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিয়েছেন। পরিকল্পনা সেবার বাইরে রয়েছে অনেকে পরিবার। তাদের মাধ্যমে ক্যাম্পেগুলোতে এইডস বেশি ছড়াচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম সংশ্নিষ্টদের দাবি, ভাইরাসজনিত রোগটি প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পরও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি ছাড়চ্ছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এআরটি অ্যান্ড এইচআইভি ফোকাল পারসন আশিকুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডস আক্রান্তের হার বেশি হওয়ায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও। তাছাড়া যে হারে রোগী বাড়ছে সেই হারে স্ক্যানিং করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই শনাক্তের বাইরে থাকছে। ভাইরাসটি ছড়ানোর নেপথ্যে বহুবিবাহ, নিরাপদ যৌনতা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার মতো কারণ রয়েছে। জীবিকার তাগিদে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস/এসটিডির ডিরেক্টর আখতারুজ্জামান বলেন, মিয়ানমার থেকে অনেকেই এইডস নিয়ে এসেছে। এ ছাড়া ক্যাম্পে প্রতি বছর ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে। আর এইডস সংক্রমণের যে কারণগুলো আছে, সেটা ক্যাম্পেগুলোতে বেশি। ফলে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু অসচেতনতা, লোকলজ্জার কারণে অনেকে রোগটি লুকিয়ে রাখছে।

পাঠকের মতামত

স্ত্রীর লাশ বাড়িতে রেখে মসজিদে গেলেন আজান দিতে, নামাজরত অবস্থায় মুয়াজ্জিনের মৃত্যু

জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তুলারামপুর ইউনিয়নের সন্তান শিহাবুর রহমান শিহাব জানান, মালিডাঙ্গা গ্রামের রোমান মোল্যার ...

উখিয়ায় জমি দখলের চেষ্টা, ভুক্তভোগীকে ‘মাদক কারবারি’ বানিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

কক্সবাজারের উখিয়ায় জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত ...

অনির্দিষ্টকালের জন্য রিয়াদের ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান

‘অনিবার্য পরিচালনগত কারণ’ উল্লেখ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ...

দুই রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরিবিএনপি নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দুই রোহিঙ্গা নাগরিকের এনআইডি তৈরির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর ...